নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরতলীর ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া এলাকায় ওয়ারিশী সম্পত্তি জবরদখল করে পুরো চারটি পরিবারকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে সাবের আহমেদের নেতৃত্বে একটি ভূমিদস্যু চক্র। তাদের নিপীড়ন ও হুমকি-ধমকি সইতে না পেরে ওই পরিবারের এক সদস্য হায়দর আলী তার ৫ কন্যা সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার শহরে এসে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন। হায়দর আলী পরিবারের দুই বোন অন্যত্র থাকলেও এক ভাই খরুলিয়ার ওই জমিতে করছেন। কিন্তু তিনি প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকিসহ নানা ধরণের হুমকির মুখে পড়ছেন। এমনকি তাকে নিজেদের চলাচলের পথ দিয়েও চলাচলে বাধা দেয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কক্সবাজার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলাও করেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন হায়দর আলী ও তার ছোট বোন সেলিনা আকতার।
তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের দাদী আবেদা খাতুনের ওয়ারিশি সম্পত্তি পাচ্ছেন তার ছেলে মৃত আলী আকবরের ওয়ারিশ হিসেবে হায়দর আলী ও তার তিন ভাই-বোন। কিন্তু তাদেরই নিকটাত্মীয় সাবের আহমমেদ, ইউছুপ আলী, সলিমুল্লাহ, নাছির উদ্দিন, আনছার, শামশুল আলম, ইউনুছ, ছালেহা বেগমসহ এক চক্র তাদের সম্পত্তি জবরদখল করে উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
হায়দর আলী বলেন, আমাদের বাবার মৃত্যুর পর দাদীর সম্পত্তির ওয়ারিশ হয়েছি আমরা। ওয়ারিশসুত্রে পাওয়া সব সম্পত্তি আমাদের নামে খতিয়ানও হয়েছে। কিন্তু ওই জবরদখলকারি চক্রটি আমাদের জমি জবরদখল করে উল্টো আমাদেরই ভিটা ও জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ছলে-বলে কৌশলে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সেলিনা আকতার বলেন, টাকার গরম ও শারিরিক বল দেখিয়ে চক্রটি অনেকদিন আগে আমাদের সব জমি অল্প টাকায় কিনে নেয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু আমরা সেই জমি তাদের দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে।
তিনি বলেন, সাবের আহমেদ আমাদের জমি দখল করে দালান ঘর নির্মাণ করে ফেলেছে। আমাদের জমির ন্যায্যমূল্য দেবে বলে কয়েক বছর ধরে প্রতারণা করে চলেছে। উল্টো তারা সকলে মিলে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি ও উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে হায়দর আলী পরিবার এসকল ভূমিদসূদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। তারা দাবি করছেন, তাদের অর্থনৈতিক ভাবে অসহায় পেয়ে ওই চক্রটি নির্যাতন নিপীড়ন ও ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছেন।
খরুলিয়ায় ওয়ারিশী সম্পত্তি জবরদখল করে চারটি পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা
পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে
